Breaking News
Home / অর্থনীতি / মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক আরোপের চিন্তা

মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক আরোপের চিন্তা

হঠাৎ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের উন্নতমানের বীজ, ঋণ সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজ উৎপাদনকারীর স্বার্থ রক্ষার্থে পেঁয়াজ উৎপাদন মৌসুমে আমদানির ওপর রেগুলেটরি ডিউটি আরোপেরও কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে স্টেকহোল্ডার, আমদানিকারক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সুপারিশ করেছে কমিশন। আর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে প্রতিযোগিতা কমিশনের সুপারিশগুলো হলো—দেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং উৎপাদন স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে পেঁয়াজের হার্ভেস্টিং সিজনে আমদানীকৃত পেঁয়াজের ওপর রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন ও এনবিআর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

পেঁয়াজের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার লক্ষ্যে পেঁয়াজ চাষিদের উন্নতমানের বীজ, ঋণ, প্রশিক্ষণ, সংরক্ষণ সুবিধা ইত্যাদি প্রদানের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে এবং গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর বাজারে পেঁয়াজের অস্বাভাকি মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশে বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ মেট্রিক টন। আর সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা হয়। দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো গেলে পেঁয়াজের বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে ও মূল্য অস্থিতিশীলতা হ্রাস পাবে বলে জানায় প্রতিযোগিতা কমিশন।

স্টেকহোল্ডারদের ওই সভায় পেঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। বেশ কিছুদিন থেকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বর্জার ট্রেডের মাধ্যমে ক্রয় করা হচ্ছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রতি মেট্রিক টন ৭০০ থেকে ৮০০ ডলার দাম পড়ছে। এ পেঁয়াজ ক্রয়-বিক্রয়ের রেকর্ড প্রতিযোগিতা কমিশনকে সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

ট্যারিফ কমিশন বলছে, দেশে প্রতিদিন ৬৫৭৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ব্যবহার হয়। সে হিসাবে বছরে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ প্রয়োজন। জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ে চার মাস পেঁয়াজে ঘাটতি থাকে, যা বিদেশ থেকে আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়। তবে ২৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বাড়তে থাকে। এ মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে আড়তদার, আমদানিকারক, কমিশন এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের কোনো যোগসাজশ আছে কি না সে বিষয়ে খতিয়ে দেখতে প্রতিযোগিতা কমিশনকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

আবার এই ঘাটতি দেখিয়ে পেঁয়াজ আমদানিতে এলসি খোলার বিপরীতে দেশীয় পেঁয়াজ উৎপাদনকারী চাষিদের সুরক্ষার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এরই মধ্যে পেঁয়াজ আমদানিতে যে এলসি খোলা হয়েছে, সেই পেঁয়াজ আসার পর দেশীয় কৃষক ও উৎপাদনকারীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজার ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক হতে হবে

. আজিজুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান, ট্যারিফ কমিশন

দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি হয় না। ঘাটতির কারণে আমদানি করা হয়। তখনই সিন্ডিকেট করা হয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। ব্যবসায়ীরা মার্কেট ম্যানুপুলেট করে বাজারকে প্রভাবিত করেন। আর যখন বাজারে প্রভাব পড়ে তখনই সরকার অ্যালার্ট হয়। আর সরকার সতর্ক হতে হতেই ব্যবসায়ীরা মুনাফা তুলে নেন। এ জন্য বিতরণ সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে। অ্যাডহক ভিত্তিতে করলে হবে না, বিতরণ চ্যানেল প্রাতিষ্ঠানিক হতে হবে। এটা ঠিক করা সম্ভব হলে বাজারে নিয়ন্ত্রণ আসবে। বিতরণ চ্যানেল ঠিক করার পাশাপাশি বাজার মনিটরিং ও ভবিষ্যতে পেঁয়াজের বাজার কোন দিকে যাবে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।

Please follow and like us:

Check Also

পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে বাধা নেই

ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার বেশ কিছুদিন থেকে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD