Home / সারাদেশ / রাজশাহী বিভাগ / বগুড়ায় নবান্নের আমেজ, আমন কাটছে চাষিরা
Bali, Indonesia - April 19,2011: Local women working on the rice field. Rice, to the Balinese, is more than just the staple food; it is an integral part of the Balinese culture.

বগুড়ায় নবান্নের আমেজ, আমন কাটছে চাষিরা

‘আশ্বিন গেল কার্তিক মাসে পাকিল ক্ষেতের ধান/সারামাঠ ভরি গাহিছে কে যেন হলদি কোটার গান/ধানে ধান লাগি বাজিছে বাজনা, গন্ধ উড়িছে বায়/কলমীলতায় দোলন লেগেছে, হেসে কূল নাহি পায়।’ কবি জসীমউদ্দীন এভাবেই কার্তিকের রূপের কথা বলেছেন তাঁর অমর সৃষ্টি কাব্যকাহিনী নক্সী-কাঁথার মাঠে। কবির সেই ধান পাকার গন্ধ আজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে বগুড়ার প্রতিটি এলাকায়।

কবির চোখের মতো করেই আজ দেখা যাচ্ছে ধানে ধানে ধান লেগে শব্দ বয়ে যাচ্ছে একটানা। আর পাকা ধানের শব্দের সাথে তাল মিলিয়ে এক মনে আমন ধান কেটে চলেছে। যেন নবান্নের আগমনী বার্তা পেয়ে চাষিরা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

দুই সপ্তাহ আগেই নবান্নের আমেজ শুরু হয়েছে বগুড়ায়। জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান কেটে ঘরে তোলা শুরু করেছেন কৃষকরা। চিরায়ত নিয়মে হেমন্তের মধ্যভাগে নতুন ধান ঘরে তোলার পর বাঙালির নবান্ন উৎসব শুরু হয়। বাংলার কৃষক সমাজ প্রাচীন কাল থেকে নবান্ন উৎসব পালন করে আসছে। কালের বিবর্তনে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালন করতে ভুলে যায়নি আজও। গ্রাম বাংলায় কৃষকেরা নবান্ন উৎসব পরিপূর্ণ ভাবে উদযাপনের জন্য মেয়ে জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে আমন্ত্রণ করে এনে নতুন চালের পোলাও, পিঠা ও পায়েসসহ রকমারী নিত্য নতুন খাবার তৈরী করে ধুম-ধামে ভোজের আয়োজন করে।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার তৈয়বপুর গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান বলেন, গ্রাম্যবধূরা জামাইকে সাথে নিয়ে বাপের বাড়িতে নবান্ন উৎসব করার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করে। নবান্ন উৎসবে গ্রামের কৃষকেরা মিলে-মিশে গরু, মহিষ ও খাঁসি জবাই করে। হাট-বাজারের বড় মাছ কিনে আনে। এই নিয়মের ধারাবাহিকতায় কৃষকদের ঘরে ঘরে চলছে এখন ঐতিহ্যবাহী নবান্ন আমেজ। সব-মিলিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকেরা নবান্ন উৎসব পালনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে চলছে ঐতিহ্যবাহী বাৎসরিক নবান্ন উৎসব পালনের প্রস্তুতি।

হেমন্তের শুরুতেই ঘরে উঠছে আগাম জাতের ধান। নির্ধারিত সময়ের আগেই পাকা ধান যেমন ঘরে উঠছে, তেমনি সেই ধানের ফলনও হয়েছে ভালো। শ্রমিক সংকট থাকায় দ্বিগুণ টাকায় ধান কাটাতে হচ্ছে। আগাম জাতের আমন ধান কেটে ওই জমিতে রবিশষ্য আলু, সরিষা চাষ করবে এই উপজেলার কৃষকেরা। এতে একই জমিতে বছরে চারটি ফসল উৎপাদন করতে পারবে কৃষক।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ মশিদুল হক জানান, এই উপজেলার কৃষকরা ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছে। এরমধ্যে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহ পর উপজেলা জুড়ে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, জেলায় আমন চাষের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন। গত বছর ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬০ হেক্টর। উৎপাদন হয় সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন। চলতি বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে  ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন চাল।

Please follow and like us:

Check Also

বগুড়ায় হবে করোনা পরীক্ষা, পৌঁছেছে পিসিআর মেশিন

  বগুড়া ০৯ এপ্রিল ২০২০ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে (শজিমেক) শুরু হচ্ছে করোনাভাইরাস পরীক্ষার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD