Breaking News
Home / অন্যান্য / স্বাস্থ্যসেবা / যেসব খাবারে হতে পারে কিডনিতে পাথর

যেসব খাবারে হতে পারে কিডনিতে পাথর

*অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাসের কারণে হতে পারে কিডনিতে পাথর

*কিডনিতে পাথর থেকে বাঁচতে কিছু খাবার বেশি বেশি আবার কিছু খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে

বেঁচে থাকার জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। এছাড়া সুস্বাস্থ্য রক্ষায় স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। কিন্তু অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাসের কারণে হতে পারে কিডনিতে পাথর। বর্তমানে অনেকেই কিডনিতে পাথর হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে বাঁচতে চাইলে কিছু খাবার বেশি বেশি খেতে হবে আবার কিছু খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে।

সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, নিম্ন-চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য, পোল্ট্রি, শিম, মাছ, বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবার খেতে হবে বেশি বেশি। সোডিয়াম এবং সুগার কম আছে এমন খাবার খেতে হবে। তাহলে আসুন এবার জেনে নেয়া যাক কোন খাবারগুলো খাওয়া যাবে না বা বাদ দিতে হবে।

ক্যাফেইন এবং সোডা এড়িয়ে চলুন

আপনি যদি কিডনিতে পাথর রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে তরল খেতে হবে। কিন্তু তাই বলে কফি খাবেন না। দিনে দুই কাপের ২৫০ থেকে ৫০০ বেশি কফি, চা এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস খাবেন না। অতিরিক্ত কফি পানে কিডনির অবস্থা আরো খারাপ হবে।

সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার

সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। প্রক্রিয়াজাত এবং ক্যানজাত খাবার খাওয়াও বাদ দিতে হবে। কারণ এসব খাবারে প্রচুর লবণ দেয়া হয় সংরক্ষণের জন্য। তার চেয়ে বরং কম লবণযুক্ত খাবার খান।

বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার

মাংস, মাছ এর মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দিতে হবে। তার চেয়ে বরং চর্বিহীন মাংস সামান্য পরিমাণে তেলে রান্না করে বা সেদ্ধ করে খান। আর বেশি মশলাযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলুন।

উচ্চহারে চর্বিযুক্ত খাবার

পনিরের মতো উচ্চহারে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়াও বাদ দিতে হবে। তার চেয়ে বরং নিম্নহারে চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খান। নাস্তার জন্যও আপনার পাস্তুরিত দুধ খাওয়াই উচিত। উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি খাদ্য

আপনার যদি কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে তাহলে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি আছে উচ্চমাত্রায় এমন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে আপনাকে। অ্যান্টাসিড ওষুধও এড়িয়ে চলুন কেননা তাতে উচ্চ মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকে। তবে খুবই স্বল্প পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। এছাড়া মাছের তেল বা ভিটামিন ডি খেতেও সাবধান। কেননা কিডনিতে পাথর থাকলে পরিস্থিতি খারাপ করে তুলতে পারে এসব খাবার।

অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার

আপনার কিডনিতে হওয়া পাথরগুলো যদি হয় ক্যালসিয়াম অক্সালেট তাহলে আপনাকে অবশ্যই অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এমন খাবারগুলো হলো, চা, কফি, বিট, লাউজাতীয় তরকারি, মিষ্টি আলু, স্পিনাক, টমেটো স্যুপ, ক্যানজাত ফলের সালাদ, রুবার্ব বা রেউচিনি, স্ট্রবেরি ইত্যাদি। এছাড়া চকোলেট, টোফু, বাদাম এবং মোটাভাবে চূর্ণিত শস্য বাদ দিতে হবে

অ্যালকোহল

কিডনিতে পাথর হওয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িতে না হলেও অ্যালকোহল কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এতে আছে পিউরিন উপাদান যা ইউরিক এসিড পাথর তৈরি করতে পারে। এছাড়া অ্যালকোহল কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট করে।

হেরিং জাতীয় ছোট মাছ

এই চর্বিবহুল মাছটি বেশ সুস্বাদু। তবে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে এই মাছ। সুতরাং এই মাছ না খাওয়াই নিরাপদ।

অ্যাসপ্যারাগাস

মূত্রবর্ধক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে কিডনিতে পাথর হলে এটি না খাওয়াই ভালো। এছাড়াও শিম , ফুলকপি, কিডনি ও লিভারের মাংস, মাশরুম, অলিভ অয়েল এবং সার্ডিন মাছ খাওয়াও এড়িয়ে চলতে হবে।

আরো কয়েকটি জরুরি পরামর্শ:

প্রতিবেলায় ৮৫ গ্রামের বেশি মাংস খাওয়া যাবে না। আইসক্রিম, ভাজা-পোড়া খাবার এবং সালাদ ড্রেসিং খাওয়ার লোভও সামলাতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেটস, কমলালেবু এবং লেবুর সরবত খেতে হবে।

Please follow and like us:

Check Also

চোখে আঘাত! এই কাজটি ভুলেও করবেন না

চোখ প্রত্যেকটি প্রাণীর জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। চোখের ক্ষতি হওয়া মানেই জীবন অচল হয়ে যাওয়া। তাইএর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email
Facebook
Twitter

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD