Home / জাতীয় / বাংলার মাটিতে রাজাকার-খুনিদের স্থান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলার মাটিতে রাজাকার-খুনিদের স্থান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতা এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় স্বাধীনতা বিরোধীদের অভিযুক্ত করে বলেছেন, বাংলার মাটিতে রাজাকার, খুনি এবং তাদের দোসরদের কোনো স্থান হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজাকার, খুনি, আলবদর, আল শামস, ৭৫’র ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বরের খুনীদের যারা দোসর ও খুনিদের মদদদাতাদের কারো স্থান বাংলার মাটিতে ভবিষ্যতে কোনোদিন ইনশাল্লাহ হবে না।

রোববার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বাসস’র

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে সেভাবেই চিন্তা করতে হবে, এ দেশ যেন আবারো ওই খুনিদের রাজত্ব না হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা যেন অব্যাহত থাকে। গণতান্ত্রিক ধারা যেন অব্যাহত থাকে।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছে, শহীদ হয়েছে, যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। ব্যর্থ হয় নাই এবং ভবিষ্যতেও কেউ তা ব্যর্থ করতে পারবে না।

চলমান সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় পূণর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান সেটা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী ও খুনিদের এদেশে বিচার হয়েছে, সাজা হয়েছে। এদের যারা দোসর বা ষড়যন্ত্রকারী হয়তো আজকে আমরা তাদের বিচার করে যেতে পারলাম না। কোনো না কোনো দিন এই ষড়যন্ত্রকারিরা ধরা পড়বে। তাদের এই রহস্য উদঘাটন অবশ্যই হবে। কারণ ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না। কেউ না কেউ এই বিচারটা করবে। কারণ বঙ্গবন্ধুর নাম যখন এদেশ থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল ঘাতক দল তখন তারা ভেবেছিল কোনোদিন আর এই নাম ফিরে আসবে না। কিন্তু তা হয়নি। ২১ বছর পর আবার ফিরে এসেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদ এবং দেশ মাতৃকার গণআন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে অন্তরীণ থাকাকালীন তার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন তারই ঘনিষ্ঠ সহচর এবং জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান। ১৯৭৫ এর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাতের আঁধারে বঙ্গবন্ধুর খুনীরাই তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এমন নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ সারাজীবন বঞ্চিত থাকবে, ক্ষুধার্ত থাকবে, অবহেলিত থাকবে, সেটাই চেয়েছিল বিএনপি। তিনি বলেন, একটা দল যার চেয়ারপার্সন (খালেদা জিয়া) এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে জেলে রয়েছেন। আবার ভারপ্রাপ্ত দলটির চেয়ারম্যান যাকে করলো (তারেক রহমান), সে আরেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং পলাতক।

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের আত্মমর্যাদার প্রশ্ন তুলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমি জানি না যারা বিএনপি করেন তাদের কোনো মেরুদণ্ড আছে কি না সেটাই আমার সন্দেহ। তারা শুধু মায়াকান্না কাঁদে।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে আমরা বার বার ক্ষমতায় এসেছি বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে তাদের ফাঁসির রায় আমরা কার্যকর করতে পেরেছি। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার করে তার রায়ও কার্যকর করতে পেরেছি।

৩ নভেম্বরের জেল হত্যার বিচার হয়েছে এবং এখনো যে কয়টা খুনি এখানে সেখানে পালিয়ে আছে তাদেরও খোঁজ খবর করা হচ্ছে, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল তখন অনেকে ভেবেছে পরিবারকে নিঃশেষ করার জন্যই এ হত্যাকাণ্ড। কিন্তু ৩ নভেম্বর যখন জেলখানায় চার নেতাকে হত্যা করা হলো তখন বাংলার মানুষ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছিল এটা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের কাজ। কারণ তারা একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, খন্দকার মোশতাকের নির্দেশে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্ত্র নিয়ে ঢোকা যায় না। কিন্তু তারা অস্ত্র নিয়ে ঢুকেছিল। গণভবন থেকে সেই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, যেভাবে ঢুকতে চায়, সেভাবেই যেন ঢুকতে দেয়া হয়।

তিনি বলেন, জিয়া এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল বলেই মোস্তাক যখন রাষ্ট্রপতি হলো, নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়েই জিয়াউর রহমানকে বানালো সেনাপ্রধান। কাজেই মোস্তাকের পতনের সঙ্গে সঙ্গে জিয়ার হাতে সমস্ত ক্ষমতা চলে আসলো।

ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জাতির পিতা হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করা, খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা সহ বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে জিয়ার কারফিউ দিয়ে দেশ শাসনের নামে চলা দুঃশাসনের বিভিন্ন ঘটনাবলীও এ সময় তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যায়কে আমরা প্রশ্রয় দেইনি। অর্থনৈতিকভাবে দেশের উন্নতি করা, দেশের অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়ন এবং দারিদ্রের হাত থেকে এদেশের মানুষকে মুক্তি দিতে চেয়েছি।

‘জাতির পিতা যেভাবে চেয়েছিলেন এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, সেটাই আমাদের লক্ষ্য এবং আমরা সেটাই করে যাচ্ছি’

তিনি কোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে গেলে তার সঙ্গে কথোপকথনে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারায় বিশ্বের অনেক দেশের রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানগণই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন কিভাবে আমরা এতো তাড়াতাড়ি উন্নতিটা করতে পারলাম।

এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জবাব আমার একটাই যদি আন্তরিকতা থাকে এবং আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে যেটা শিখেছি দেশের প্রতি যদি সেই ভালবাসা থাকে, দেশের মানুষের প্রতি দরদ থাকে, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থাকে তাহলে অসাধ্য সাধন করা যায়। কারণ সে সময় মানুষের সমর্থন পাওয়া যায়। আর মানুষের সমর্থন এবং দোয়াটাই এ সময় সবথেকে বেশি কাজে লাগে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, আজকে বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের একটা বিস্ময়। সেই সম্মান এবং মর্যাদাটা বাংলাদেশ আজকে পেয়েছে।

এই সম্মান ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়ায় তার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে আমরা একদিন গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ।

Please follow and like us:

Check Also

দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৬৮, নতুন শনাক্ত ৫৬৪///

 ৩০ এপ্রিল, ২০২০ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। ফাইল ছবি দেশে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD