Home / সম্পাদকীয় / মহীশূর রাজ্যের শাসক টিপু সুলতানের ইতিহাস

মহীশূর রাজ্যের শাসক টিপু সুলতানের ইতিহাস

ভারতের তামিলনাডুর ভেলোরে অবস্থিত সিএমসি হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো রোগী ও অভিভাবকের আগমন ঘটে। বাংলাদেশ ছাড়াও বৃহত্তর ভারতের বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্য থেকেও প্রতিদিন রোগীরা আসে চিকিৎসা নিতে। চিকিৎসার নিতে আসা রোগী ও তাদের অভিভাবকদের এখানে দীর্ঘ সময় থাকতে হয়। চিকিৎসার পাশপাশি রোগীরা বিনোদনের জন্য বেচে নেন সিএমসি হাসপাতাল থেকে অল্প দুরে এখানকার অন্যতম দর্শনীয় জায়গা হল টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ (সামার প্যালেস) লালবাগ প্রাসাদের ধ্বংশাবশেষ, টিপু সুলতানের সমাধি, রঙ্গনাথ স্বামীর মন্দির ও টিপুর কেল্লার ধ্বংসাবশেষ। প্রতিদিন হাজারো ভ্রমণ প্রিয় মানুষ ভিড় জমান এখানে। শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনরা এখানে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যান অন্য জগতে।

এই লিখার মাধ্যমে চলুন আমরা জেনে নেয় টিপু সুলতানের ইতিহাস। দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন মহীশূর রাজ্যের শাসক টিপু সুলতানের রাজধানী ছিল এই গ্রামে। শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রামে কাবেরী নদীর একতি ব-দ্বীপে নির্মিত একটি দুর্গ থেকে রাজ্য শাসন করতেন। দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসক ছিলেন টিপু সুলতান ৷ পিতা হায়দার আলী মহীশূর রাজ্যের সেনাপতি ছিলেন শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রামে কাবেরী নদীর একটি ব-দ্বীপে নির্মিত একটি দূর্গ থেকে রাজ্য শাসন করতেন৷ বর্তমানে শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রাম দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মান্ডিয়া জেলার অন্তর্গত৷ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সঙ্গে যুদ্ধে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে নিহত হন। টিপুর এক সেনাপতি মীর সাদিক বিশ্বাসঘাতকতা করে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মেলান৷ পরে তার পরিবারের লোকজনকে ভেলোরের দূর্গে বন্দী করে রাখে ব্রিটিশ শাসকরা৷ টিপু সুলতানকে ডাকা হতো শের-ই-মহীশূর; উপাধিটা ইংরেজদেরই দেয়া। তাঁর এই বাঘ (শের) হয়ে ওঠার পিছনে অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কিত ছিলো। মূল কারণ ছিলো তাঁর অসাধারণ ক্ষীপ্রতা, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা আর কৌশলপূর্ণ রাজ্য পরিচালনা – বাবার সুযোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন টিপু সুলতান। বাবা হায়দার,

১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে টিপু নামে এক ফকিরের দোয়ায় এক পুত্রসন্তান লাভ করেন এবং আনন্দচিত্তে ঐ ফকিরের নামেই ছেলের নাম রাখেন “টিপু”। মহীশূরের স্থানীয় ভাষায় (কানাড়ী ভাষা) ‘টিপু’ শব্দের অর্থ হলো বাঘ। হয়তো তাঁকে ‘শের-ই-মহীশূর’ ডাকার পিছনে এটাও একটা কারণ ছিলো।ছোটবেলা থেকেই টিপু, বাঘের গল্প শুনতে ভালোবাসতেন। বাবাই তাঁকে বাঘের গল্প শোনাতেন। কিশোর বয়সে টিপু সুলতান বাঘ পুষতে শুরু করেন। বাঘ নিয়ে তাঁর ব্যঘ্রতার শেষ ছিলো না। বাবার মৃত্যুর পর তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করলেন, তখন বাবার পুরোন সিংহাসনটি তিনি ঠিক পছন্দ করলেন না। তাই তিনি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ কারিগর দিয়ে কাঠের ফ্রেমের উপর সোনার পাত বসিয়ে তার উপর মণিমুক্তা ও রত্নখচিত একটি সিংহাসন বানিয়ে নিলেন, যাকে বরং “ব্যাঘ্রাসন”ই (Tiger throne) বলা যায়। কারণ আট কোণা ঐ আসনটির ঠিক মাঝখানে ছিলো একটি বাঘের মূর্তি। ৮ ফুট চওড়া আসনটির রেলিংয়ের মাথায় বসানো ছিলো সম্পূর্ণ স্বর্ণে তৈরি দশটি বাঘের মাথা, আর উপরে উঠার জন্য ছিলো দুধারে, রূপার তৈরি সিঁড়ি। আর পুরো ব্যাঘ্রাসনটাই ছিলো বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা। টিপু সুলতানের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন পন্ডিত পুরণাইয়া।টিপু সুলতান সামরিক তালিম নেন সরদার গাজী খান এর কাছ থেকে। টিপু সুলতান ছিলেন বহুভাষায় পারদর্শী টিপু সুলতানের রাজ্যের প্রতীক ছিলো বাঘ। এই বাঘ ছিলো তাঁর অনুপ্রেরণার মতো। তাঁর রাজ্যের পতাকায় কানাড়ী ভাষায় লেখা ছিলো “বাঘই ঈশ্বর”। তিনি সিংহাসনে বসে মাঝে মাঝেই বলতেন:

“ ভেড়া বা শিয়ালের মতো দু’শ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দু’দিন বেঁচে থাকাও ভালো ”

তাঁল সমস্ত পরিধেয় পোষাক ছিলো হলুদ-কালো রঙে ছাপানো আর বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা। তিনি যে তলোয়ার ব্যবহার করতেন, তার গায়েও ছিলো ডোরা দাগ এবং হাতলে ছিলো খোদাই করা বাঘের মূর্তি। তাঁর ব্যবহৃত রুমালও ছিলো বাঘের মতো ডোরাকাটা। তাঁর রাজ্যের সমস্ত সৈনিকের পোষাকে থাকতো বাঘের ছবি। সৈন্যদের ব্যবহার্য তলোয়ার, বল্লম, বন্দুকগুলোর নল, কুদো, হ্যামারেও আঁকা থাকতো বিভিন্ন আকারের বাঘের প্রতিরূপ কিংবা মূর্তি।

এমনকি তিনি তাঁর রাজ্যের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে, বাড়ির মালিকদেরকে বাড়ির দেয়ালে বাঘের ছবি আঁকার নির্দেশ জারি করেছিলেন। তখনও তাঁর বাঘ পোষার বাতিক যায়নি এবং রাজবাড়িতে বেশ কয়েকটি পোষা বাঘ ছিলো। তার কয়েকটি আবার তাঁর ঘরের দরজার সামনে বাঁধা থাকতো। এখানে যে সুউচ্চ হয় বিশাল মন্দিরটা দাঁড়িয়ে আছে তা চতুর্দশ শতকের তৈরি মন্দিরের গায়ের কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই ভ্রমণ পিয়াসুরা। বহু দেবদেবীর মূর্তি খোদাই করা। তামিল লোকবিশ্বাস, যেখানেই পাহাড়, সেখানেই মুরুগণ। আর মুরুগণ মানেই সুরক্ষা।

Please follow and like us:

Check Also

কবি সুকুমার রায় : শিশু সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় প্রতিভা

সুকুমার রায়। বাংলা শিশু সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় নাম। জন্ম ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় সাহিত্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

RSS
Follow by Email

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD