সাংসদ হত্যায় অভিযোগপত্র, কাদের খানই মূল আসামি

সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আবদুল কাদের খানসহ আটজনের নামে আজ রোববার বিকেলে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনার চার মাস পর গাইবান্ধার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মইনুল হাসান ইউসুফের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা অপর সাতজন হলেন মেহেদী হাসান, শাহীন মিয়া, আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানা, আবদুল হান্নান, প্রধান সহযোগী চন্দন কুমার সরকার, সাবেক সাংসদ কাদের খানের এপিএস শামসুজ্জোহা ও সুবল কসাই। এঁদের মধ্যে চন্দন কুমার সরকার পলাতক রয়েছেন। অন্যরা গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন।

মেহেদী হাসান, শাহিন মিয়া ও আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানার বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের উত্তর সমস কবিরাজটারি গ্রামে। চন্দন সরকার ও সুবল কসাইয়ের বাড়ি একই উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমত গ্রামে এবং শামসুজ্জোহার বাড়ি ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান মুঠোফোনে বলেন, সাংসদ মনজুরুল হত্যা মামলায় কাদের খানসহ আটজনকে অভিযুক্ত করে বিকেল পাঁচটায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাংসদ মনজুরুল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ গ্রামের নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন মনজুরুল ইসলামের বড় বোন ফাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি আবদুল কাদের খানকে বগুড়া শহরের রহমান নগরের গরিব শাহ ক্লিনিকের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ২৫ ফেব্রুয়ারি সাংসদ মনজুরুল ইসলামকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আবদুল কাদের খান। এ ছাড়া হত্যায় অংশ নেওয়া মেহেদী হাসান, শাহিন মিয়া ও আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

Please follow and like us:
0