বাংলাদেশে কালো টাকা সাদা হয় ১০% জরিমানায়, ভারতের ৪৫%

বাংলাদেশে কালোটাকা সাদা করার বিধান নেই। কিন্তু অপ্রদর্শিত অর্থ জরিমানা দিয়ে সাদা করার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ আয়করে প্রদর্শিত অর্থের বাইরে কোনো অর্থ থাকলে, তার উপর ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে সেই অর্থকে সাদা করা যাবে। তবে এই টাকার উৎস জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে। ফ্ল্যাট বা বাড়ি কিনেও কালোটাকা সাদা করা যায়। সেখানে অবশ্য টাকার উৎস বলতে হবে না। দেশের কর আইনে এধরনের সুযোগ থাকলেও কালোটাকা সাদা করার বিষয়ে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে ১৯৭২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা সাদা হয়েছে। আর এ খাত থেকে সরকার আয়কর পেয়েছে ১ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কালোটাকা সাদা করার আহ্বানে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে ভারতীয়রা। ৪৫ শতাংশ জরিমানা দিয়ে ৬৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকা সাদা হয়েছে। এ ৪৫ শতাংশ জরিমানার মধ্যে আয়কর ৩০ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ জরিমানা ও সাড়ে ৭ শতাংশ কৃষি কল্যাণে সেচ। তবে জরিমানার সব টাকা একসঙ্গে দিতে হবে না। প্রথম কিস্তিতে ২৫ শতাংশ পরের কিস্তিতে ২৫ শতাংশ ও শেষ কিস্তিতে ৫০ শতাংশ কর পরিশোধের বিধান করা হয়েছে।

প্রতি বছর বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ কালোটাকা উৎপাদন হয়। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার কালো টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।

এলটিইউ (লার্জ ট্যাক্সপেয়ার ইউনিট) কমিশনার আলমগীর হোসেন জানান, কালোটাকা সাদা করার বিষয়ে সবসময় একটি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করা হয়। আসল সত্যটা হলোÑ সমাজে কালোটাকা উৎপাদন হয়। এখন এই টাকাকে হিসাবের মধ্যে নিয়ে আসাটা আসলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাই প্রতিষ্ঠা করা। এখন যিনি জরিমানা দিয়ে টাকা সাদা করছেন তিনি পরে নিয়মিত কর দিচ্ছেন। তিনি সিস্টেমে প্রবেশ করেছেন। যারা কালোটাকা সাদা করার বিপক্ষে বলেন, তাদের এটা বুঝতে হবে।

দেশে বিপুল কালো টাকা থাকলেও এই টাকা উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি নাÑ এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য (প্রশাসন) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিভিন্ন সময়ে কালোটাকা সাদা করার জন্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৭ শতাংশ জরিমানা দিয়েও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন আর সেই সুযোগ নেই। অপ্রদর্শিত অর্থ এখন সাদা করা যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান জানান, ভারতে কালোটাকা সাদা করার বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। বাংলাদেশে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ রয়েছে। কালোটাকার উৎস বন্ধ করার বিষয়েও এনবিআর কিছু কাজ করছে।

Please follow and like us:
0