পুলিশের জবাবদিহিতা এবং ভোটার প্রসঙ্গ- মঈনুল আলম

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে, তার কোনো একটিরও পূর্ণ তদন্ত হয়েছে বলে প্রকাশ পায়নি। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এ সম্পর্কে সরকারের নিশ্চুপ হয়ে থাকা ন্যায়নীতিবোধসম্পন্ন নাগরিকদের ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করছে; বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদাকেও তা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার মূলে রয়েছে বাংলাদেশের পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতার অভাব। যে কোনো অস্ত্রধারী বাহিনীকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা থেকে মুক্ত রাখলে সে বাহিনীর সদস্যদের কেউ কেউ বেপরোয়া এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের তদন্তে একাধিক র্যাব কর্মকর্তার গ্রেফতার হওয়া এরই একটি উদাহরণ।
বাংলাদেশের পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু কিভাবে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়? এ পরিপ্রেক্ষিতে কানাডার সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ ওন্টারিওর পুলিশ পরিচালনার কিছু প্রাসঙ্গিক দিক তুলে ধরছি।
ওন্টারিও প্রদেশে পুলিশের কোনো অভিযানে কারো মৃত্যু, গুরুতর আঘাত অথবা যৌন আক্রমণ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে সেই ঘটনার তদন্ত করার এখতিয়ার ‘এসআইইউ’ বা ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিট’ নামীয় স্বাধীন এক সিভিলিয়ান সংস্থার হাতে চলে যায়। সংশ্লিষ্ট পুলিশদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনার সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তদন্ত এবং দোষী পুলিশদের সাজা দেয়ার সম্পূর্ণ এখতিয়ার এই সংস্থার রয়েছে। তার ওপর পুলিশের প্রভাব বিস্তার করার কোনো উপায় নেই।
‘এসআইইউ’ গুরুতর আগত, মৃত্যু এবং যৌন আক্রমণের ঘটনাগুলোর তদন্ত করে থাকে। আঘাত গুরুতর না হলে সে ঘটনার তদন্ত যায় ‘অফিস অব দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পুলিশ রিভিউ ডিরেক্টর’-এর দফতরে এবং সেখানেই ঘটনার তদন্ত এবং রায় দেয়া হয়।
বাংলাদেশে যেমন দেশব্যাপী সমগ্র পুলিশ বাহিনী একটি অবিচ্ছিন্ন সংস্থা এবং একজন প্রধান কর্মকর্তার (আইজিপি) অধীনে প্রশাসিত হয়ে থাকে, কানাডায় পুলিশ বাহিনী তেমন নয়। কানাডাব্যাপী কার্যপরিচালনার জন্য যে পুলিশ বাহিনী তার নাম হচ্ছে ‘আরসিএমপি’ (রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ)। প্রধানত যেসব অপরাধ এবং অবৈধ কার্যকলাপ একটি প্রদেশের বাইরে বিস্তার লাভ করে, সেগুলো প্রতিরোধ করার দায়িত্ব ‘আরসিএমপি’র। এটি কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায় থাকে।
প্রদেশের জন্য রয়েছে প্রাদেশিক পুলিশ, যেমন ওন্টারিওর জন্য রয়েছে ‘ওপিপি’ বা ‘ওন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পুলিশ’। এদের কার্যকলাপ প্রদেশব্যাপী। কিন্তু প্রদেশের বড় শহরগুলোতে এবং মেট্রোপলিটান নগরীগুলোতে আছে সেসব শহর বা নগরীর নামে পুলিশ, যেমন টরন্টোতে রয়েছে ‘টরন্টো পুলিশ’। এভাবে তিন স্তরে তিন পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পুলিশের তিনটি সংগঠন থাকাতে কানাডার কোনো রাজনৈতিক সরকার সামগ্রিকভাবে পুলিশকে নিজেদের প্রভাবের অধীনে আনতে পারে না। পুলিশেরও ক্ষমতাসীন কিংবা বিরোধী দল-কারো পক্ষে অথবা বিপক্ষে পক্ষপাতমূলক কাজ করার চাপ থাকে না।
কানাডা আয়তনে ৬৯টি বাংলাদেশের সমান (কানাডার আয়তন প্রায় ৯০ লাখ বর্গকিলোমিটার, আর বাংলাদেশের আয়তন হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার)। কিন্তু কানাডার মোট জনসংখ্যা মাত্র তিন কোটি ৩০ লাখ অর্থাৎ বাংলাদেশের জনসংখ্যার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ! বলা যায়, বাংলাদেশের গড়ে একটি বিভাগের জনসংখ্যা কানাডার মোট জনসংখ্যার সমান! কানাডার দৃষ্টিতে দেখলে প্রতীয়মান হবে যে, বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগকে একটি ‘প্রদেশ’রূপে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রতি বিভাগে প্রভিন্সিয়াল পুলিশ গঠন করতে হবে যারা হবে কেন্দ্রীয় পুলিশ থেকে পৃথক সংস্থা।
বাংলাদেশে এক স্বেচ্ছাচারিতাভিত্তিক একদলীয় শাসন গেড়ে বসাকে প্রতিরোধ করতে হলে প্রতি বিভাগকে প্রদেশে রূপান্তরিত করে সেসবে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিতে জননির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে হবে। বিভাগ/প্রদেশের স্ব স্ব নির্বাচিত সংসদ হবে যাকে বলা থাকবে প্রাদেশিক পরিষদ এবং প্রদেশের সরকার চালাবেন চিফ মিনিস্টার বা মুখ্যমন্ত্রী। প্রাদেশিক সরকারের অধীনে প্রভিন্সিয়াল পুলিশ থাকবে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে উপরিউক্ত পরিবর্তন আনা নিঃসন্দেহে সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং এ জন্য অবশ্যই নিরপেক্ষ ‘রেফারেন্ডাম’ মাধ্যমে জনমতের সমর্থন পেতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পুলিশ অ্যাক্টে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে পৃথক পৃথক বিভাগীয় পুলিশ বাহিনী গঠন করা যেতে পারে এবং কানাডার ওন্টারিওর ‘পুলিশ সাভিসেস বোর্ড’-এর অনুরূপ প্রাদেশিক পুলিশ সার্ভিসেস বোর্ড স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ/প্রদেশের কেন্দ্রীয় সংসদ সদস্যগণ, নগরগুলোর মেয়রগণ এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে প্রাদেশিক পুলিশ সার্ভিসেস বোর্ড করা হবে এবং বোর্ডের স্থায়ী চেয়ারম্যান হবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
এই বোর্ড প্রাদেশিক পুলিশের কর্মকর্তাদের পদায়ন, বদলি ইত্যাদি করবেন। এই বোর্ডের আওতায় থাকবে কানাডার অনুকরণে ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিট’ যেটা পুলিশের সংশ্লিষ্টতায় কোনো বন্দুকযুদ্ধ, কোনো নাগরিকের মৃত্যু অথবা আঘাত পাওয়া ইত্যাদি ঘটনার স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং তদন্তে প্রমাণিত হলে দায়ী পুলিশদের বিরুদ্ধে ‘ডিসিপ্লিনারি’ ব্যবস্থা নেবে।
ওন্টারিও প্রদেশের ‘এসআইইউ’র পরিসংখ্যনে দেখা যায় ২০১৩ ও ১৪ সালে প্রদেশে পুলিশের গুলিবর্ষণে ৯ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। একই বছরে পুলিশের কবলে থাকা অবস্থায় আহত হয়েছে ২০০ ব্যক্তি। যেসব পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে বিচার করা হচ্ছে, তাদের সংখ্যা হচ্ছে ১১। তদন্ত করা হয়েছে যেসব ঘটনার, তার সংখ্যা ৩১৮।
বাংলাদেশে যে প্রায় প্রতি দিন পুরিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মানুষ নিহত হচ্ছে এবং চাঁদাবাজিসহ নানাবিধ অপরাধজনক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠছে পুলিশের বিরুদ্ধে, এগুলোর সুস্পষ্ট তথ্য, তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিসংখ্যন যদি মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়, পুলিশের জবাবদিহিতা আসবে এবং জনমনে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে। তা ছাড়া, বিদেশে বাংলাদেশের সরকার, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কে ধারণার উন্নতি হবে।
বিজয়ীকে বেশির ভাগ ভোটারের ভোট পেতে হবে
বাংলাদেশে যে গতানুগতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়ে আসছে, তাতে বিজয়ী প্রার্থী/দল কি প্রকৃতই জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে বিজয়ী হয়? প্রায়ই নয়। বাংলাদেশে অনেক দল/ব্যক্তি মোট ভোটারসংখ্যার অর্ধেকের চেয়েও অনেক কম ভোট পেয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছে এবং বেপরোয়াভাবে শাসন চালিয়েছে।
এই গতানুগতিক পদ্ধতিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বলা হয় ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (যে সবার চেয়ে অগ্রগামী) অর্থাৎ যে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এই পদ্ধতিতে গণতন্ত্রের মূল নীতি অর্থাৎ জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে ক্ষমতা গ্রহণ, সেই মূলনীতিই উপেক্ষিত হয়। এভাবে ক্ষমতাসীন শাসক অনেক সময় গণতন্ত্রের অন্য শর্তগুলোকে উপেক্ষা করে শাসন এবং প্রায়ই স্বৈরশাসকের চরিত্র অর্জন করে।
গতানুগতিক নির্বাচনপদ্ধতির এই গলদ অপসারণ করে নির্বাচনপদ্ধতিকে গণতন্ত্রের মূল নীতি, অর্থাৎ জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে শাসনের দায়িত্ব লাভ, এর সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে নগর পরিষদ নির্বাচনে ‘র্যাঙ্কড ব্যালটিং সিসটেম’ (ধাপভিত্তিক ভোটপ্রদান পদ্ধতি) প্রবর্তন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস নগরসহ কয়েকটি নগর ও শহরের পরিষদ নির্বাচনে ইতোমধ্যেই ‘র্যাঙ্কড ব্যালটিং সিসটেম’ প্রবর্তিত হয়েছে।
কানাডায় প্রথম পর্যায়ে ‘সিটি কাউন্সিল’ বা নগর পরিষদ নির্বাচনে এই পদ্ধতি গ্রহণের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। কানাডার বৃহত্তম নগরী টরন্টো এবং তৎসহ এই ওন্টারিও প্রদেশের ৪৪৪টি পৌরসভার নির্বাচন ২০১৮ সাল থেকে এই পদ্ধতিতে করার জন্য ওন্টারিওর প্রাদেশিক সরকার ‘মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন্স অ্যাক্ট’-এ পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে জনমত গ্রহণ করছে। টরন্টোর মেয়র জন টরি এবং টরন্টো নগর পরিষদ এই পরিবর্তনটি ‘ঐতিহাসিক এবং বৈপ্লবিক’ হবে বলে এ জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
শত বর্ষেরও অধিক কাল ধরে যে গতানুগতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়ে আসছে, তাকে বলা হয় ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’। এ পদ্ধতিতে যে ক্যান্ডিডেট সর্বাধিক ভোট পান, তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যার ন্যূনতম অনুপাত হলেও, তাকেই নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়! এই পদ্ধতিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মোট ভোটার সংখ্যার মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েও ক্ষমতায় আসীন হতে পারেন, যা গণতন্ত্রের মূল নীতির সাথে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
‘র্যাঙ্কড ব্যালটিং সিসটেম’-এ ভোটদাতা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তার ‘প্রথম পছন্দ’, ‘দ্বিতীয় পছন্দ’ এবং‘তৃতীয় পছন্দ’ অনুযায়ী চিহ্নিত করে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিজয়ী হতে হলে তাকে অবশ্যই নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারসংখ্যার ন্যূনপক্ষে ৫০ শতাংশ+১ টি ভোট পেতে হবে। একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ভোট গণনায় যে প্রতিদ্বন্দ্বী সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভোট পেয়েছেন তাকে বাদ দেয়া হবে। মোট গণনায় যে প্রতিদ্বন্দ্বী ভোটারদের ‘প্রথম পছন্দ’তে মোট ভোটারসংখ্যার ন্যূনতম ৫০শতাংশ+১ সংখ্যক ভোট পাবেন তিনি বিজয়ী হবেন।
যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী এইসংখ্যক ভোট না পান, যে প্রতিদ্বন্দ্বী ‘প্রথম পছন্দে’ ন্যূনতম সংখ্যায় ভোট পেয়েছেন তাকে নির্বাচন থেকে বাদ দেয়া হবে। সেই প্রতিদ্বন্দ্বীর ‘দ্বিতীয় পছন্দে’ পাওয়া ভোটগুলো বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হবে। এভাবে করতে করতে শেষ পর্যন্ত যে প্রতিদ্বন্দ্বী যোগফলে ‘৫০ শতাংশ+১’ সংখ্যা অতিক্রম করবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পৌরসভার নির্বাচনে ‘র্যাঙ্কড ব্যালটিং সিসটেম’ চালু হয়েছে, তাতে প্রধান যে ফায়দাটি লক্ষ করা গেছে, তা হলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনী প্রচারণা তীব্র গালিগালাজমুখী হয় না। কারণ প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রথম পছন্দ, দ্বিতীয় পছন্দ ও তৃতীয় পছন্দের ভিত্তিতে ভোট পাওয়ার ব্যবস্থা থাকায় কেউই বিরোধী ক্যাম্পের ভোটারদের চটাতে চায় না।
দ্বিতীয় ফায়দা দেখা গেছে, যেহেতু জয়ী হতে হলে অবশ্যই মোট ভোটারসংখ্যার ন্যূনতম ‘৫০ শতাংশ+১’ সংখ্যার ভোট পেতে হবে, সে কারণে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকার সার্বিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে এবং কর্মসূচি দিতে হবে। কোনো একটি এলাকার অথবা কোনো একটি গোষ্ঠীর পাইকারি ভোট নিয়ে তার বিজয়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। টরন্টো নগর পরিষদের নির্বাচনে মোট ভোটারসংখ্যার মাত্র ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েই মেয়র নির্বাচিত হওয়ার নজির আছে। ‘র্যাঙ্কড ব্যালটিং সিসটেম’-এ তা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।
যেহেতু ভোটার শুধু একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারার সীমাবদ্ধতায় বাঁধা থাকেন না, তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের প্রতিদ্বন্দ্বীকে ভোট দেয়ার সুযোগও থাকে, সেজন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ‘নেগেটিভ’ ভোট দিয়ে তাকে নিশ্চিতভাবে পরাজিত করার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে যায়।
ফলে সম্পূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশটি ‘কনফ্রনটেশনাল’ (মুখোমুখি লড়াইভিত্তিক) না হয়ে ‘কনসেশনাল’ (পাস্পরিক সমঝোতাভিত্তিক) হয়ে ওঠে; যার অন্যতম ফল হলো,অধিক সংখ্যায় ভোটারেরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উৎসাহী হন।
তবে, ‘র্যাঙ্কড ব্যালটিং সিসটেম’ অপেক্ষাকৃত জটিল পদ্ধতি। এ কারণে এই পদ্ধতির প্রচার এবং ভোটারদের কাছে এটাকে পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনীয়তা আছে অবশ্যই।
লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, প্রবাসী
moyeenlalam@hotmail.com

সূত্র: hardnews24.com

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *