পাঁচ ছক্কার নিষ্প্রাণ ‘সেমিফাইনাল’

পোশাকি নাম কোয়ালিফায়ার-২! আদতে তো সেমিফাইনাল। ফাইনালে ওঠার শেষ ধাপ তো এটাই। সেই সেমিফাইনালে তো দুই দলের নামার কথা নিজেদের সবকিছু নিয়ে। ব্যাটে বলের লড়াইয়ে মাতানোর কথা গ্যালারি। কিন্তু রাজশাহী কিংস আর খুলনা টাইটানস ম্যাচে তা হলো কই! মাত্র পাঁচ ছক্কার ম্যাড়মেড়ে এক ম্যাচে খুলনাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেছে রাজশাহী।

পরশু ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবেন সাব্বির রহমানরা। অথচ প্রতিযোগিতার শুরুতে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছিল রাজশাহী। তাদের ওই বাজে শুরুটা হয়েছিলও এই খুলনার হাত ধরে। দুই দলের প্রথম ম্যাচে শেষ ওভারের নাটকে রাজশাহীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন মাহমুদউলাহ। আজও শেষ ওভারটি করতে এসেছিলেন খুলনা অধিনায়ক, কিন্তু আজ আর কোনো নাটক হয়নি। ১২৫ তাড়া করে ৪ বল বাকি রেখেই ম্যাচ শেষ করে এসেছে রাজশাহী।
গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড গ্যালারির অর্ধেকের বেশি খালি। বাকি অংশেরও কোথাও জমাট দর্শক নেই। ছড়ানো ছিটানো দর্শকেরা মিলে ভরতে পারেনি গ্যালারির অর্ধেকও। শেষ দৃশ্যে এসে কি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছে বিপিএল!
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল খুলনা টাইটানসের ব্যাটিং দেখেও তা–ই মনে হলো। রাজশাহী কিংসের সামনে তারা দিতে পারল মাত্র ১২৬ রানের লক্ষ্য। দুই দলের আগের দুটি ম্যাচই ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাতে আরও বেশি উত্তেজনাই ভর করার কথা। অথচ সেই খুলনা-রাজশাহীর ম্যাচই কিনা কোয়ালিফায়ার পর্যায়ে এসে হয়ে পড়ল প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন! ম্যাচটা শেষ ওভারে গেলেও ৭ উইকেটের জয় তুলে নিতে কোনো বেগই পেতে হয়নি রাজশাহীকে।
তবে জয়ের লক্ষ্যের দিকে তাদের গতিটা ছিল অনেক শ্লথ। ১২৬ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করতে খেলতে হয়েছে শেষ ওভার পর্যন্ত। ‘শেষ ওভার’ কথাটা পড়ে মনে হতে পারে দুই দলের আজকের ম্যাচও বুঝি শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকরই হয়েছে। আসলে তা নয়। শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে এবার আর চমক দেখাতে পারেননি খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ছয় বলে চার রান দরকার ছিল রাজশাহীর। প্রথম বলে সাব্বির রহমান এক রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলেই লং অন দিয়ে বিশাল এক ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন জেমস ফ্রাঙ্কলিন।
৬৭ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর মনে হচ্ছিল রাজশাহী বুঝি চাপেই পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সাব্বির-ফ্রাঙ্কলিন সেটা হতে দিলেন না। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৬২ রানের জুটিতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাজশাহী। লক্ষ্য কম থাকাতেই সুবিধা হয়েছে সাব্বির, ফ্রাঙ্কলিনের। জয়ের জন্য একদমই তাড়াহুড়া ছিল না। সাব্বিরের ইনিংসই তার প্রমাণ। টি-টোয়েন্টিতে যার বোলারদের ওপর নির্দয় হয়ে উঠতেই পছন্দ, সেই সাব্বিরের অপরাজিত ৪৩ রান এসেছে ৫২ বলে। মাত্র দুটি বাউন্ডারি মেরেছেন এবং তার প্রথমটি উইকেটে নিজের ৩২তম বলে। খুলনার বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেনকে লং অন দিয়ে গেছে সাব্বিরের একমাত্র ছক্কাটি। ফ্রাঙ্কলিন তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক থাকলেও সাব্বিরের মতো গোছানো ছিল তাঁর ২৪ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংসও।
খুলনা টাইটানসের অবশ্য শুরুতেই এলোমেলো হয়ে পড়ে সবকিছু। প্রথম বলেই বাউন্ডারি দিয়ে যে ইনিংসের শুরু, সেটা তৃতীয় ওভারে এসেই দিক হারাল। মাত্র এক বলের ব্যবধানে দুই ওপেনার হাসানুজ্জামান ও আবদুল মজিদের রান আউটের ধাক্কা তারা সামলে উঠতে পারেনি শেষ পর্যন্ত। সাত নম্বরে নামা আরিফুল হকের ২৯ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ইনিংসটি না হলে দলের স্কোর ১২৫-ও হতো কি না সন্দেহ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা টাইটানস: ২০ ওভারে ১২৫/৯ (আরিফুল ৩২*, পুরান ২২, মাহমুদউল্লাহ ২২, প্যাটেল ৩/১৯)।
রাজশাহী কিংস: ১৯.২ ওভারে ১২৯/৩ (সাব্বির ৪৩*, ফ্রাঙ্কলিন ৩০*, আফিফ ২৬; মাহমুদউল্লাহ ১/১০)।
ফল: রাজশাহী কিংস ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সামিত প্যাটেল।

Please follow and like us:
0