পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল জেএসসি ও জেডিসিতে এবার শিক্ষার্থী বেড়েছে ৮৬ হাজার ৮৪২ জন

অংশ নিচ্ছে ২৪ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) শুরু হচ্ছে আগামীকাল। গত বছরের তুলনায় এবার এ দুটি পরীক্ষায় মোট শিক্ষার্থী বেড়েছে ৮৬ হাজার ৮৪২ জন। এ বছর ২৪ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৩ জন। গতকাল (রোববার) সচিবালয়ে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ সব তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার আটটি বোর্ডের অধীনে জেএসসিতে পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৩ ও মাদরাাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জন।’ এবার পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘এবার বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়, আমরা এ বিষয়ে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। আগে পরীক্ষার হলে ঢুকে গেলে আমরা ১৫ মিনিট আগে খাতা দিয়ে দেব। ভবিষ্যতে আমরা হয়তো এটি ম্যান্ডেটরি (বাধ্যতামূলক) করে দেব।’ ২০১৬ সালের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ছাত্রের তুলনায় এক লাখ ৬৪ হাজার ২৯ জন ছাত্রী বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুটি পরীক্ষায় মোট ছাত্র ১১ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৩ জন ও ছাত্রী ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৪০২ জন। এরমধ্যে জেএসসি ছাত্র ৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৫ জন ছাত্রী ১০ ৮৯ হাজার ১৫৮ জন। জেডিসিতে ছাত্র এক লাখ ৭৫ হাজার ২২৮ জন ও ছাত্রী এক লাখ ৯৯ হাজার ২৪৪ জন।’ নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ হবে ১৭ নভেম্বর। আমরা ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল দেব। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা চালু হয়েছে। সপ্তমবারের মতো এ পরীক্ষা হচ্ছে। এবার ২৮ হাজার ৭৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা ২ হাজার ৭৩৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর মোট কেন্দ্র বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৭টি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১২৯টি বৃদ্ধি পেয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী জেএসসিতে এক লাখ ৩ হাজার ৬৫৩ জন ও জেডিসি ১৮ হাজার ২১ জন। এছাড়া বিশেষ পরীক্ষার্থী (এক, দুই ও তিন বিষয়ে অকৃতকার্য) জেএসসিতে ৯১ হাজার ৮৬১ ও জেডিসিতে ১৪ হাজার ৬৯৮ জন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ পরীক্ষার উদ্দেশ্য অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতির ফলে সারাদেশে স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার মানে যে ভিন্নতা রয়েছে তা প্রমিতকরণ করা।’ তিনি বলেন, ‘শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পলসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তাদের জন্য শ্রুতি লেখকের সুযোগ রাখা হয়েছে।’ প্রতিবন্ধীদের মধ্যে অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রালপলসি আক্রান্ত পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক বা অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এবারও থাকছে। নকলমুক্ত পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান শিক্ষামন্ত্রী। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছেই এ দু’টি পরীক্ষার দায়িত্ব চলে আসে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, হঠাৎ করে দায়িত্ব পাওয়ায় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা তাদের জন্য বাড়তি চাপ হবে। জেএসসি পরীক্ষার সূচি: ১ নভেম্বর বাংলা প্রথমপত্র, ২ নভেম্বর বাংলা দ্বিতীয়পত্র, ৩ নভেম্বর ইংরেজি প্রথমপত্র, ৬ নভেম্বর ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র, ৭ নভেম্বর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বৌদ্ধধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, খ্রিষ্টধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এছাড়া ৮ নভেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ১০ নভেম্বর শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, ১৩ নভেম্বর গণিত, ১৪ নভেম্বর হবে কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, ১৫ নভেম্বর বিজ্ঞান, ১৬ নভেম্বর চারু ও কারুকলা, ১৭ নভেম্বর কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, আরবি, সংস্কৃত, পালির পরীক্ষা হবে। জেডিসি পরীক্ষার সূচি: ১ নভেম্বর কুরআন মাজীদ ও তাজবিদ, ২ নভেম্বর আকাইদ ও ফিকহ, ৩ নভেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (শুধু অনিয়মিত), ৬ নভেম্বর ইংরেজি প্রথম পত্র, ৭ নভেম্বর ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র, ৮ নভেম্বর বাংলা প্রথমপত্র, ৯ নভেম্বর বাংলা দ্বিতীয়পত্র, ১০ নভেম্বর কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এছাড়া ১২ নভেম্বর গণিত, ১৩ নভেম্বর আরবি প্রথমপত্র, ১৪ নভেম্বর আরবি দ্বিতীয়পত্র, ১৫ নভেম্বর সামাজিক বিজ্ঞান (শুধু অনিয়মিত), বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ১৬ নভেম্বর বিজ্ঞান, ১৭ নভেম্বর কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য অর্থনীতি (শুধু অনিয়মিত) এবং গার্হস্থ্য বিজ্ঞানের পরীক্ষা হবে। এসময় সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. মাহবুবুর রহমানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Copyright Daily Inqilab

Please follow and like us:
0