‘দোয়া করবেন যেন আর দল বদল না করি’

তিন বছর ধরেই দারুণ ধারাবাহিক তামিম ইকবাল। রান করে দেশকে জেতাচ্ছেন, বিভিন্ন ব্যক্তিগত মাইলফলকও পেরিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সে তুলনায় ম্যাচ শেষে আলোটা কি পুরোপুরি মিলছে তাঁর? এই যে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ৮৪ রানের দুটি দারুণ ইনিংস খেললেন, কিন্তু ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা তাঁর হাতে ওঠেনি।

টেস্টে তামিম সর্বশেষ ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন ২০১৭ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ওয়ানডেতেও একই মাসে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টির ম্যাচসেরা পুরস্কারটা তাঁর হাতে উঠেছিল এরও এক বছর আগে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। মাঝখানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে করেছিলেন সেঞ্চুরি করেছেন, ব্যাট হাতে ছিলেন দারুণ ধারাবাহিক কিন্তু তাঁর বীরত্বটা ঢাকাই পড়ে গেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও একই ব্যাপার—মন খারাপ হয় না তাঁর?

তামিম ব্যাপারটি নিয়ে যে একেবারেই ভাবেননি ব্যাপারটা তা নয়। ভেবে ভেবে একটা সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছেন। আজ সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরটাও দিলেন দারুণ, ‘দেখুন, আমি একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। আমি আমার পরিশ্রমের ফলে বিশ্বাস করি। আনুষ্ঠানিক পুরস্কারে নয়।’ প্রচণ্ড পরিশ্রম তো করেন ওই রান করার জন্যই। পরিশ্রম করেই নিজেকে এই জায়গায় এনেছেন। তাঁর ব্যাট ধারাবাহিক হয়েছে। তামিমের আনন্দ এটিই। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়ে একটা পুরস্কার হয়তো তিনি পেতে পারতেন। কিন্তু সেটির আনন্দ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক হওয়ার চেয়ে অবশ্যই বেশি নয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দশ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। অনেক কিছুই শিখেছেন। ধারাবাহিক হওয়ার পাঠ নিয়েছেন। এমন অনেক কিছুই আছে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তিনি রপ্ত করেছেন। এই যে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে খেলছে, এই সময় তাঁর করণীয়টা কী হতে পারে, সেটা ভালোই বোঝেন তামিম, ‘আমার তো মনে হয় এই সময়েই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। সেটা দল হিসেবেও হতে পারে, ব্যক্তিগত পর্যায়েও।’

দায়িত্বের ধরনটাও জানালেন তিনি। বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে। বোনাস পয়েন্টসহ নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ ফাইনাল। একটু নির্ভার তো হতেই পারেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু তামিম নিজের বিশ্বাসের কথাটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা যারা জাতীয় দলে আছি, কেউই এ অবস্থায় নির্ভার বোধ করছে না। দুটি ম্যাচ জিতে গিয়েছি। এখন বাকি দুটিতে হারলেও কিছু হবে না—এই জিনিসটা কারও মধ্যে দেখছি না। প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ একেকটা সুযোগ। খেলোয়াড়েরা সেভাবেই দেখে বিষয়টা। খেলোয়াড়েরা চাচ্ছে ভালো করতে। একটা সেঞ্চুরি করতে বা একটা ভালো ইনিংস খেলতে। আমরা ফাইনালে চলে গিয়েছি। কিন্তু তারপরেও প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাকি দুটি ম্যাচে আমাদের অর্জনের অনেক কিছুই আছে। ফাইনাল যখন আসবে, তখন দেখা যাবে। আপাতত এই দুটি ম্যাচ শেষ করি।’

Please follow and like us:
0