চার ইস্যুতে ট্রাম্পের ইউটার্ন

নীতিনির্ধারণী চার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে রীতিমতো ইউ-টার্ন নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়া, রাশিয়া, ন্যাটো ও চীন সম্পর্কে নিজের নীতি থেকে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছেন তিনি। সিরিয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর এ অবস্থান জানালেন ট্রাম্প। খবর সিএনএনের।

বুধবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ওপর সমর্থন প্রত্যাহারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন সর্বনিন্ম পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। আলোচনা শেষে মস্কোতে টিলারসন বলেন, দুই দেশের মধ্যকার আস্থা ও বিশ্বাস একেবারে সর্বনিন্ম পর্যায়ে। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থার মেরামত করা উচিত। দুটো পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে এমন সম্পর্ক থাকা ঠিক নয়।’

এর পরপরই ওয়াশিংটনে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা রাশিয়ার পাশে থাকছি না। আমার মনে হয়, রাশিয়ার সঙ্গে এ যাবৎকালের মধ্যে একেবারে ন্যূনতম সম্পর্কের পর্যায়ের সম্পর্কে রয়েছি।’ এ সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ‘কসাই’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। গত ৪ এপ্রিল সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলায় বহু প্রাণহানির ঘটনায় আসাদকে দায়ী করে এই মন্তব্য করেন তিনি। ফক্স নিউজের সঙ্গেও এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া যদি এই পশুকে (আসাদ) সমর্থন দেয়া বাদ না দেন, তবে অনেক সমস্যা তৈরি হবে। পুতিন এমন একজনকে সমর্থন দিচ্ছেন, যে প্রকৃতপক্ষে একজন শয়তান লোক। এটা রাশিয়ার জন্য খুব খারাপ হবে। আমি মনে করি, এটা মানবজাতির জন্যও খারাপ।’এর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় পুতিন ও আসাদের প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পরও বলেছিলেন, আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানো যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নয়।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণার সময় এবং গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি এখন অচল সংগঠন।’ বুধবার সেই সুর পাল্টে তিনি বলেছেন, ‘ন্যাটো আর অচল কোনো সংগঠন নয়।’ চীন সম্পর্কেও সুর বদলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। এক সপ্তাহ আগেও চীন সম্পর্কে তার মন্তব্য ছিল সম্পূর্ণ নেতিবাচক। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, চীন ম–দ্রা জালিয়াতি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক পাল্লা দেয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে চীন নিজের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। বুধবার ট্রাম্পের সেই সুরও বদলেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, চীন মুদ্র্রা জালিয়াত নয় এবং দেশটি তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঠেকাতে কাজ করছে।

গত শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফ্লোরিডায় নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্র মার এ লাগোতে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। এর পরই চীন সম্পর্কে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন তিনি।

মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জ্যানেট ইয়েলিনকে ট্রাম্প অপছন্দ করেন এটাতো রীতিমতো প্রকাশ্য বিষয় ছিল। ইয়েলিনের স্বল্প সুদ নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন ট্রাম্প।

বুধবার সেই অপছন্দের জায়গাতেও এসেছে পরিবর্তন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আর এখন ইয়েলিনের স্বল্প সুদনীতি অপছন্দ করছেন না। এ ছাড়া তিনি ইয়েলিনকে শ্রদ্ধাও করেন। বিবিসি জানিয়েছে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইয়েলিনকে পরবর্তী মেয়াদে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সুযোগটি খোলা রাখলেন ট্রাম্প।

Please follow and like us:
0